August 26, 2026, 6:23 am

৩৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করতে যাচ্ছে রিজার্ভ

৩৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করতে যাচ্ছে রিজার্ভ

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যেই দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ আরেকটি মাইলফলক অতিক্রম করতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৭ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার, যা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। প্রতি মাসে চার বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় হিসেবে এ রিজার্ভ দিয়ে প্রায় সাড়ে নয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে রিজার্ভ ৩৮ বিলিয়ন (তিন হাজার ৮০০ কোটি) ডলার ছাড়াবে বলে প্রত্যাশা করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মহামারীতে রেমিটেন্সের গতিতে ছেদ তো পড়েনি, বরং তা আরও বেড়েছে। জুলাইয়ে ২৬০ কোটি ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনও এক মাসে এত বেশি রেমিটেন্স দেশে আসেনি। চলতি আগস্টের ছয় দিনে (১ থেকে ৬ আগস্ট) ২৯ কোটি ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এর আগে এক মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিটেন্স এসেছিল জুনে ১৮৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। করোনা মহামারীতে মার্চ থেকে বৈশ্বিক পরিস্থিতি ওলটপালট হয়ে যাওয়ায় রেমিটেন্সও কমে গিয়েছিল। কিন্তু এপ্রিল থেকে রেমিটেন্সে ঊর্ধ্বগতির ধারা চলছে। এর গতি ধরে রাখতে গত অর্থবছরে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা ঘোষণা করেছিল সরকার। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরেও এ ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে, বিদায়ী অর্থবছরে (২০১৯-২০) মোট এক হাজার ৮২০ কোটি ৩০ লাখ (১৮.২০ বিলিয়ন) ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা। ওই অংক ছিল আগের অর্থবছরের (২০১৮-১৯) চেয়ে ১০ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরে (২০১৮-১৯) মোট ১৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন রেমিটেন্স এসেছিল।

রেমিটেন্সের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি ও এআইআইবির মতো দাতা সংস্থার ঋণ সহায়তাও রিজার্ভ বৃদ্ধিতে অবদান রেখেছে। চার মাসে (এপ্রিল-জুলাই) দাতা সংস্থাগুলোর সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলার ঋণ-সহায়তা যোগ হয়েছে রিজার্ভে। গত বছরের ৮ আগস্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩২ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২৪ জুনে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২ জুলাই সেই রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। এরপর ৭ জুলাই এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) মে-জুন মাসের ৭২ কোটি ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে প্রবাসীরা বেশি রেমিটেন্স পাঠানোয় সেই রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। আকুর জুলাই-আগস্ট মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধ করতে হবে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে।

এর আগ পর্যন্ত রিজার্ভ ৩৮ বিলিয়ন ডলারের উপরেই অবস্থান করবে বলে আশা করছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, ইরান, মিয়ানমার, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ- এই নয়টি দেশ বর্তমানে আকুর সদস্য। দেশগুলো থেকে বাংলাদেশ যেসব পণ্য আমদানি করে তার বিল দুই মাস পর পর আকুর মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়

সূত্র: যুগান্তর

Please Share This Post in Your Social Media


Comments are closed.

© 2019 Businessnewsbs24.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com